ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

বিএনপির আন্দোলনের হাতিয়ারে মরিচা ধরে গেছে: কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, বিএনপির আন্দোলনের হাতিয়ারে মরিচা ধরে গেছে। বিএনপির কথিত জোয়ার এখন ভাটায় পরিণত হয়েছে।

 

 

পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনে ভরাডুবির আশঙ্কা বিএনপিকে আগেই পেয়ে বসেছে। তাই তাদেরই হৃদকম্পন শুরু হয়েছে। রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউর সরকারি বাসভবন থেকে শনিবার (২ অক্টোবর) ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

 

বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্য প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, এসব সৃজনশীল কথামালার চাতুরিতে ফখরুল ইসলাম আলমগীর আত্মতৃপ্তি বোধ করতে পারেন। কর্মীদের রোষানল থেকে নিজেদের সুরক্ষার জন্য কল্পনার ফানুস ওড়াতে পারেন। কিন্তু বাস্তবের সঙ্গে তাদের বক্তব্যে বৈপরীত্য আছে, তা দেশের মানুষ ঠিকই জানেন। মির্জা ফখরুল প্রতিদিনই নতুন নতুন তথ্য উপস্থাপন করেন আর মাঝে মাঝে তার বাকচাতুর্য কল্পনাকেও হার মানায়।

 

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আওয়ামী লীগ ভয়ে কাঁপে না। চ্যালেঞ্জ আর লক্ষ্য অর্জনের পথে বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়াই বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি। আর সেই রাজনীতিই আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে করে যাচ্ছে। এদেশের রাজপথ জানে আওয়ামী লীগের আন্দোলন-সংগ্রামের বীরত্বগাথা আর সমৃদ্ধ ইতিহাস। জনগণ বিএনপির হঠকারিতা, গণতন্ত্র হত্যা, ষড়যন্ত্র, লুটপাট আর সুবিধাবাদী রাজনীতির কথাও জানে।

 

বিএনপির জনসমর্থনের জোয়ার তো গত ১৩ বছরে কোনো নির্বাচনে দেখা যায়নি দাবি করে তিনি আরও বলেন, তারা ভরাডুবির ভয়ে এখন নির্বাচনবিমুখ। তাই রাজপথ আর ভোটের ময়দান ছেড়ে গণমাধ্যম এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজনীতিকে সীমাবদ্ধ করে রেখেছে। শেখ হাসিনা সরকার আর আওয়ামী লীগকে হুমকি-ধামকি দিয়ে লাভ নেই।

 

ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের যে অপচেষ্টা বিএনপি নেতারা করছেন তা আমাদের অজানা নেই। ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশের গণতন্ত্র যখন এগিয়ে যায়, তখন সরকার ও নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর আস্থা ফিরতে শুরু করে। নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, এ প্রতিষ্ঠানের ওপর সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ নেই।

 

যারা বহুদলীয় গণতন্ত্রের নামে বহুদলীয় তামাশা আর সুবিধাবাদ চালু করেছিল, যাদের দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্রের চর্চা নেই, আজ তারাই গণতন্ত্র নিয়ে কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বিএনপি মহাসচিবকে প্রশ্ন করে বলেন, আপনি নির্বাচিত হয়েও কেন সংসদে গেলেন না? এটা কোন গণতন্ত্র? ভোটাধিকার নিয়েতো আপনারাই ছিনিমিনি খেলেছিলেন।

 

কারা হ্যাঁ-না ভোটের প্রহসন করেছিল? কারা সেনাপ্রধান পদ থেকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করেছিল? কারা ১৫ ফেব্রুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচন করেছিল? কারা ১ কোটি ২৭ লাখ ভুয়া ভোটার সৃষ্টি করে জনগণের অধিকার হরণ করতে চেয়েছিল? এতসব প্রশ্নের জবাব আশা করি বিএনপি মহাসচিব দেবেন।