ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ব বিদ্যালয়ের ভিসির লাগামহীন দূর্নীতি

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর হারুনর রশীদ ২য় মেয়াদে ভিসি হওয়ার জন্য এখন ঢাকায় অবস্থান করে জোর লবিং করছে বলে জানা যায়।

২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারী হারুনর রশীদ পবিপ্রবি’র ভিসি হিসেবে যোগদানরে পর পরচিতিি হয়ে উঠনে দুর্নীতিপরায়ন ভসি। যোগদানের পর ১০২ জন প্রভাষক, ৩২ জন কর্মকর্তা ও ৪৪৮ জন কর্মচার্রী নিয়োগ দিয়ে শতকোটি টাকা নিয়োগ বাণিজ্য করেছেন। তার এ অবৈধ নিয়োগ বানিজ্যের বিরুদ্ধে গত ৪ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, কর্মচারী, এবং স্থানীয় নাগরিকরা ৩ দফা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন। এতে করে ২ বার অবৈধ নিয়োগ স্থগিত হয়।

হারুনর রশীদের ঘুষ-দুর্নীতি, নিয়োগ বাণিজ্য, টেন্ডার বানিজ্য, স্বজনপ্রীতি, নারী কেলেংকারীর কারনে বিশ্ববিদ্যালয়টি দুর্নীতি ও অনিয়মের স্বর্গ রাজ্যে পরিনত হয়েছে। সম্প্রতি তার নিয়োগ বানিজ্য, ঘুষ, দুর্নীতি, অবৈধ অর্থ উপার্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবর পবিপ্রবি’র অভিভাবক মোঃ মোশারফ হোসেন অভিযোগ দাখিল করেন। ইতোমধ্যেই দুদক তদন্তে মাঠে নেমেছে বলে দুর্নীতি দমন কমিশন সূত্রে জানা যায়। ভিসি হারুনর রশীদের রয়েছে অনেক অর্থ ও বিত্ত ভৈবব। ঢাকার রায়ের বাজার বুদ্ধিজীবি গোরস্থানের পাশে ১৬ শতাংশ জমি রয়েছে যার মুল্য আনুমানিক ১২ কোটি টাকা। তারই সন্নিকটে হাজীর বাড়ির চতুর্থ তলায় তার পুত্র তানভীর রশীদের নামে ২০০০ স্কয়ার ফিটের ফ্ল্যাট দেড় কোটি টাকায় ক্রয় করেছে। এছাড়া ঢাকা, বরিশাল ও ঝালকাঠীতে পুত্র তানভীর রশীদ, তাকিউর রশীদ, স্ত্রী কনিকা মাহফুজ, পুত্রবধু আজমিরা সিনসিয়ার ৬ টি প্লট রয়েছে। এদের নামে বেনামে ঢাকা, বরিশালের কয়েকটি সরকারী ও প্রাইভেট ব্যাংকে আনুমানিক ২৫ কোটি টাকা সঞ্চয় আছে। তানভীর রশীদের ৪টি মালবাহী কার্গো জাহাজ রয়েছে- যার মূল্য ছয় কোটি টাকা। এছাড়া ভিসি হারুনর রশীদ ছোট ভাই নাসিম আকন ও জ্যেষ্ঠপুত্র তানভির রশীদের ঠিকাদারী ব্যবসায় ২০ কোটি টাকা যোগান দিয়েছেন বলে অভিযোগ আছে। ভিসি হারুনের পরিবারে কেউ আওয়ামী লীগ করেন না। তার পিতা আব্দুল কাদের মাস্টার রাজাকার কমান্ডার ছিলেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় কাদের মাস্টারের অত্যাচারে অতীষ্ঠ হয়ে ঝালকাঠী জেলা ও রাজাপুর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধারা তাকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে স্থানীয় চিংড়ি ব্রীজে গুলি করে হত্যা করে।

গত ১৯ ডিসেম্বর ২০১৬ইং দৈনিক যুগান্তর, মানবকন্ঠসহ কয়েকটি অনলাইন পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলাও করে প্রচারিত হয়। তার ছোট ভাই নাছিম উদ্দিন আকন রাজাপুর উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক। অপর ভাই ফিরোজ আকন রাজাপুর উপজেলা বিএনপি নেতা।

গত ৪ বছরে হারুনর রশীদ বিশ্ববিদ্যালয়ে জামায়াত-বিএনপিপন্থী শিক্ষক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সহায়তায় কাজের নামে হরিলুট চালায়। বিগত দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএনপি সমর্থিত জিয়া পরিষদ, শিক্ষকদের সাদা দল,জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিভিন্ন সভায় তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং তার সরব উপস্থিতি ছিল। বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষকদের কোন দায়িত্ব না দেওয়ায় তাদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮ জন ডিনের মধ্যে ৫ জনকে তিনি কট্টরপন্থী বিএনপি সমর্থিত জিয়া পরিষদের ও জামায়াত শিক্ষকদের দায়িত্ব দেন। এরা হলেন কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. এস এম তাওহিদুল ইসলাম। তিনি জিয়া পরিষদের সদস্য ও শিক্ষকদের সাদা দলের নেতা। এর আগে এই অনুষদে জিয়া পরিষদের সহ-সভাপাত প্রফেসর জামাল হোসেনকে দায়িত্ব দেন। বিএএম অনুষদের ডিনের দায়িত্ব দেন জিয়া পরিষদের সিনিয়র সদস্য প্রফেসর বদিউজ্জামানকে। এএনএস ভিএম অনুষদের ডিনের দায়িত্ব দেন জিয়া পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক ও সাদা দলের নেতা প্রফেসর ড. মোঃ মামুন-অর-রশীদকে। এর আগে একই অনুষদের ডিনের দায়িত্ব দেন জিয়া পরিষদের সিনিয়র সদস্য প্রফেসর মোঃ রুহুল আমিনকে। এগ্রিকালচার অনুষদে ডিনের দায়িত্ব দেওয়া হয় প্রফেসর গোলাম রাব্বানী আকন্দকে। তিনি ছাত্র জীবনে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ শাখা ছাত্রদলের নেতা ছিলেন। ফিশারিজ অনুষদের ডিনের দায়িত্ব দেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ শাখা শিবিরের নেতা মোঃ লোকমান আলীকে। ভিসি নিজে ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অনুষদ ও নিউট্টিশন এন্ড ফুড সায়েন্স এর দায়িত্ব নেন। আওয়ামীলীগপন্থী শিক্ষক ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের সিনিয়র শিক্ষক প্রফেসর ড. মোঃ রবিউল হক, প্রফেসর আলী আজগর ভূইয়া, বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর জেহাদ পারভেজ, প্রফেসর ড. মোঃ ফজলুর হক, প্রফেসর ড. মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, প্রফেসর ড. আবুল কাশেম চৌধুরী, প্রফেসর ড. আবদুল মতিন, প্রফেসর ননী গোপাল সাহা, প্রফেসর ড. কাওসার নিয়াজ বিন সুফিয়ানসহ বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও আওয়ামীলীগ সমর্থিত অধিকাংশ শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ কোন পদে দায়িত্ব দেননি।

৫৮ জন চেয়ারম্যানের মধ্যে ৩১ জনকে জামায়াত-বিএনপি পন্থী শিক্ষকদের দায়িত্ব দেন। জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক এসএম হেমায়েত জাহানকে কীটতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান, জিয়া পরিষদের সহসভাপতি মোঃ জামাল হোসেনকে কম্পিউটার এন্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ার বিভাগের চেয়ারম্যান, অধ্যাপক ফারুক-ই-আজমকে রসায়ন বিভাগের চেয়্যারম্যানসহ ৩১ জন বিএনপি ও জামানপন্থী শিক্ষকদের দায়িত্ব দেন।